সব কিছু ভেঙে পড়ে

৳ 180.00

ব্রিজ একটি কাঠামো; সবকিছুই আমার কাছে কাঠামো, বলেছে সব কিছু ভেঙে পড়ের নায়ক, সেতু-প্রকৌশলী, মাহবুব; সে আরো বলেছে, ‘বিশতলা টাওয়ার, জানালার গ্রিলে বৃষ্টির ফোঁটা, শিশির বিন্দু, সভ্যতা, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ, সমাজ, সংসার, বিবাহ, পনেরো বছরের বালিকা, তার বুক, দুপুরের গোলাপ, দীর্ঘশ্বাস, ধর্ম, আর একটির পর একটি মানুশ-পুরুষ, নারী, তরুণী, যুবকের সাথে আমার সম্পর্ক, অন্যদের সম্পর্ক, সবকিছুই, আমার কাছে কাঠামো’। কাঠামোর কাজ ভার বওয়া; যতদিন ভার বইতে পারে ততদিন তা টিকে থাকে; ভার বইতে না পারলে ভেঙে পড়ে। কোনো কাঠামোই চিরকাল ভার বইতে পারে না। মাহবুব জানে, ‘সত্য হচ্ছে ভেঙে পড়া, কাঠামোর কাজ ওই ভেঙে পড়াকে, চরম সত্যকে, কিছু কালের জন্যে বিলম্বিত করা; কিন্তু একদিন সব কাঠামোই ভেঙে পড়বে’। হুমায়ুন আজাদের সব কিছু ভেঙে পড়ের বিষয় নারী-পুরুষের শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের কাঠামোটি। নারী-পুররুষ পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করবে, এটা তাদের নিয়তি; এবং আরো মর্মান্তিক নিয়তি হচ্ছে তাদের আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সব কিছু ভেঙে পড়ের নায়ক মাহবুব ব্রিজের পর ব্রিজ বানিয়েছে, নদীর ওপর তার ব্রিজগুলো টিকে আছে, যদিও একদিন ভেঙে পড়বে; কিন্তু ওই ব্রিজের থেকেও শক্ত উপাদানে সে মানুষের সাথে, নারীর সাথে, অনেকগুলো মানবিক সেতু সৃষ্টি করেছিল, তার একটিও টেকেনি, একের পর এক ভেঙে পড়েছে। বিবাহ ভেঙে পড়েছে, প্রেম ভেঙে পড়েছে, কাম ভেঙে পড়েছে; কোনো কাঠামোই টেকেনি। মাহবুব বলেছে, ‘পৃথিবীজুড়ে মহাজগৎ জুড়ে ভেঙে পড়ার শব্দ হচ্ছে; আমি ভাঙা দালানের ভেতর দিয়ে পথ থেকে পথে ছুটছি, দালানের পর দালান ভেঙে পড়ছে, শহর ভেঙে পড়ছে, সবকিছু ভেঙে পড়ছে।’ অসামান্য গদ্যে হুমায়ুন আজাদ এ উপন্যাসে উদঘাটন করেছেন নারীপুরুষের সম্পর্কের নিয়তি-সব কিছু ভেঙে পড়ে।