পদ্মা উপাখ্যান

৳ 120.00

পদ্মা নদীর দুই পারে দুই বাংলা। পদ্মার দুই পারের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনধারার আড়ালে প্রবাহিত এক গোপন নিষ্ঠুর নিষিদ্ধ জীবনের নানা কথকতা পদ্মা উপখ্যান উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিসয়। নাইমা, জুলেখা, মেজর এ. টি., আগারওয়াল, এনায়েত, আনিকুল, টেপন মেম্বার, মন্টু মহাজন, ডিউক- এইসব চরিত্রের বুনন দিয়ে এ সময়ের সাহসী কথাশিল্পী সিরাজুল ইসলাম মুনির তার সাবলীল গদ্যভঙ্গিতে সৃষ্টি করেছেন এক বিশাল ক্যানভাসের ছবি, এক জীবনবাদী উপন্যাস-‘পদ্মা উপাখ্যান’।

…পদ্মার বুকে এখন ধুলোর সমুদ্র নাচে হেমন্তে গ্রীষ্মে, আগুনের হল্‌কায় ভাসে প্রবল প্রতাপশালী মরুঝড়। পদ্মা-মহনন্দার দুতীরের মানুষের দিকে এখন আর তাকানো যায় না। হতশ্রী, দারিদ্র্যের থাবা লিপ্ত, পোড়া কুঞ্চিত চামড়ার নিচে অস্থিকঙ্কালের কাঠামো। জল হারিয়েছে প্রথমে, জলের কারণে বিত্তবেসাত। বিত্তের কারণে চরিত্র সম্মান। পদ্মাপারের মানুষেরা এখন লাফাঙ্গা, কালোবাজারি, দুই নাম্বারি।

…পদ্মা মহনন্দার সঙ্গম পার হয়ে বহুদূর পর্যন্ত পদ্মার মূলধারা বিশাল ক্যানভাসের মতো চোখে পড়ে। সেই বহুদূরের কোথাও রয়েছে ইতিহাসের অভিশপ্ত নগরী ভগবানগোলা- যেখানে একদিন সারা বাংলার স্বাধীনতা নির্বাপিত হয়েছিল সিরাজের ধরাপড়ার মধ্য দিয়ে। আসন্ন সন্ধ্যার আয়োজনে বিষণ্ণ এক লাল আলো ডিউকের বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ভগবানগোলার আকাশের খিলানে বাঁধা বিশাল শামিয়ানার মতো ছড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের আকাশ-আঁচলেও।