প্রবন্ধসংগ্রহ

৳ 300.00

উজ্জ্বল আলোর ধারা অবিরাম নেমে আসছে সোনালি তোরণ দিয়ে। আলোকিত হয়ে উঠেছে পথ দিগন্ত হচ্ছে ক্রমশ উদ্ভাসিত। শব্দরাশি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই তোরণ। কত মেধাবী মানুষের ধারাবাহিক নিষ্ঠায়, অক্লান্ত শ্রমে। রাত জেগে, প্রাণপাত পরিশ্রম করে লেখকরা এই তোরণ নির্মাণ করেছেন। অবলীলায় ত্যাগ করেছেন সংসারের মায়া। অনায়াসে  অস্বীকার করতে পেরেছেন জাগতিক সুখের উপকরণকে। প্রহর পরিণত হয়েছে বিষাদে। অস্থির এক তাড়নায় ছটফট করেছেন তারা। লেখার ভেতর ছড়াতে পেরেছেন দীপ্ত। অন্ধকারের বিরুদ্ধে শ্রমকে করেছেন সংগঠিত।

তবু কোন বিপন্ন বিস্ময় দ্বারা আক্রান্ত তারা? তলস্তয় শীতের বিষণ্ণ রাতে নির্জন, অখ্যাত রেল স্টেশন কুঁকড়ে মরে থাকেন। ইয়েসনিন হাতের শিরা কেটে ফেলেন ব্লেড দিয়ে। ছোটে লাল রক্তের ফিনকি। বদলেঅর শরীরে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেন উপদংশের নষ্ট বীজ। হেমিংওয়েল আঙুল অনায়াসে চলে যায় ট্রিগারে। ডিলান টমাস আকণ্ঠ ডুবে থাকেন সোমরসে। সিলভিয়া প্লাথ মা’র কাছে চিঠিতে লেখেন ‘সময়গুল কেমন দুঃসহ। আত্মহত্যা না করে মানুষ কি করে টিকে আছে জানি না।’ আবার কখনো ‘প্রতিটি মুহূর্তই দারুণ মূল্যবান। বুদ্ধদেব বসু মৃত্যুর আগের দিন রাতেও মোমবাতির আলোতে মহাভারতের কথা’র প্রুফ সংশোধনে ব্যাপৃত থাকেন। জিবনানন্দ দাশের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ট্রামের নিচে। ধাতব চাকায় লেগে থাকে তাঁর রক্ত। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি তাদের। শৈশব, কৈশোর থেকে আমার ধূসর পৃথিবীকে করে রেখেছে বর্ণিল। দিয়েছে আনন্দময় ভুবনের উৎসের সন্ধান। শব্দরাশির ভেলায় করে নিয়ে গেছে দূরের দ্বীপে।

সাহিত্যের তীব্র স্বাদ সোনালি তোরণের মতো নতুন পথের সন্ধান দিলো ছোট মাপের এই পৃথিবীর বাইরে যেতে হবে। যেখানে থাকবে না মানুষের সংকীর্ণতা। লোভ লালসার গোপন থাবা। বিষয়ী মানুষের মুখ। চার পাশের পৃথিবীতে স্থূল মানুষজনের দাপট। তারা শুধু মাপা, হিশেবী কথা বলে। জটিল অংক কষে। নক্ষত্রের নীল আলো নীরবে কীভাবে নেমে আসে পৃথিবীর বুকে তার খবর রাখে না। মাছেরা যে গান গায় তা বিশ্বাস করে না। নিঃসঙ্গ চিলকে না কাঁদার জন্য অনুরোদ তাহলে সাহিত্যের শব্দই পারে। পারে আমাদের এই সীমাবদ্ধ পৃথিবী থেকে দূরের আভাস দিতে। সম্প্রসারিত করতে। এই দূরাগত আভাস অবিরাম উদ্দীপিত করে রাখে। চেতনাভূমিকে করে উর্বর। মেধাকে দেয় স্বাস্থ্য। শিল্পবোধকে দেয় পুষ্টি। দূর দিগন্তে অভিযাত্রার সম্মুখে থাকে সোনালি তোরণ।