বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি বঙ্গবন্ধু স্মারক সংকলন

৳ 1,400.00

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁরই নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীন বাংলা স্বাধীনতা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের দ্রষ্টা ও স্রষ্টা। এ কারণেই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক সূত্রে গাঁথা। নিপীড়িত বাংলার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাঠ করতে হলে অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামীজীবন-ইতিহাস পাঠ অপরিহার্য।

বঙ্গবন্ধু বাংলার এমন এক অবিসংবাদিত মহান নেতা, যে-নেতার জীবনকাহিনি মহাকাব্যের নায়কের মতোই বীরত্বপূর্ণ; কিন্তু পরিণাম অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও রক্তরঞ্জিত। তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও নিজের কর্ম ও যোগ্যতাবলে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতাদের কাতারে নিজেকে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম, সীমাহীন সাহস, দূরদর্শিতা ও ধৈর্য-পৃথিবীর যেকোনো মানুষের জন্যই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই-সংগ্রাম করে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কীভাবে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে জয়ী হতে হয়-বঙ্গবন্ধু তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।

বাঙালি জাতির যা কিছু মহান অর্জন, সবকিছুর সঙ্গে লেগে আছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্পর্শ। ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ঘোষণা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের সুমহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনসহ সব কটি আন্দোলনেই বাঙালির প্রাণভোমরা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এমনকি ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যখন অখণ্ড ভারতবর্ষ ‘ভারত ও পাকিস্তান’ নামে দ্বিখণ্ডিত হয়, সেই সংগ্রামেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ছিল উল্লেখ করার মতো।

বঙ্গবন্ধুকে উপজীব্য করে দেশ-বিদেশের অসংখ্য কবি-লেখক তাদের নানামুখী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেউ লিখেছেন। প্রাঞ্জল প্রবন্ধ, কেউ লিখেছেন আবেগঘন গল্প, কেউ তাকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করেছেন নিখুঁত কবিতায়। ছড়ায়-চিত্রকলায়ও বঙ্গবন্ধু উঠে এসেছেন স্বমহিমায়। কবি-লেখক-শিল্পীরা শুধু ভালোবাসা প্রকাশের জন্যই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিল্প সৃষ্টি করেননি, এ ক্ষেত্রে তারা কিছুটা দায়ও অনুভব করেছেন। এই দায় ইতিহাসের দায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার দায়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে হলে বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত পথেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কবি-লেখক-শিল্পীদের সৃজনকর্মে এ কথাই বারবার ঘোষিত হয়েছে।