রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গার জীবন দোদুল্যমান বর্তমান ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

৳ 550.00

রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এ-নির্যাতনের সর্বশেষ অভিজ্ঞতা রোহিঙ্গাদের হয়েছে ২০১৭ সালের আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে যখন প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়, পুড়িয়ে প্রায় ৫ শত গ্রাম পুরোপুরি ছাই করে দেওয়া হয়, প্রায় ২ হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয় (যার অধিকাংশ দলবেঁধে ধর্ষণ) এবং প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হয়। এ-নির্যাতনের তীব্রতা এবং ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে ছিল যে, খোদ জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এটাকে বলেছে, ‘পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণযোগ্য জাতিগত নিধন’; আবার অনেকে বলেছেন, এটা একটি পরিষ্কার ‘জেনোসাইড’। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মনে করে অবৈধ বাঙালি’ আর বাংলাদেশ মনে করে ‘অবৈধ বৰ্মাইয়া’ । যেন এ-পৃথিবীতে জন্ম নিয়েও পৃথিবীতে তাদের কোনো জায়গা নেই । মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের যে মাত্রার নির্যাতন করেছে, রোহিঙ্গারা মনে করে, কোনো মানুষ অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে এ-ধরনের আচরণ করতে পারে না; কিন্তু তাঁদের সঙ্গে করেছে। কারণ, তাঁদের জীবন মানুষের চেয়ে অধম। এছাড়া সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। ভাসানচরে স্থানান্তরও রোহিঙ্গাদের জীবনে নতুন অধ্যায়। এ-বইয়ে রোহিঙ্গাদের জীবনের একটি সামগ্রিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ সন্নিবেশিত হয়েছে।