শহীদের রক্তে রাঙানো

৳ 350.00

মরিয়ম বেগমের অনন্ত দুঃখ এ নবগঙ্গা নদী। যে দুঃখ কখনো শেষ হয় না। একটি জায়গায় থেমে রয়েছে। তাকে আর সরানো যায় না। নদীর জলের মতো কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। শুধু কষ্ট নয়; দুঃসগ যন্ত্রণা, যা অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে তোলে। এ দুর্বিষহ মর্মবেদনা মরিয়মকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়।

সূর্যটা সমুদ্রতলে ডুবে যায়। সাগরের বিশাল জলরাশি আলো-আঁধারির কান্নায় ভেঙে পড়ে। বড় বড় ঢেউ একটির ওপর আরেকটি আছড়ে পড়ে আর্তনাদ করতে করতে সৈকতে পৌঁছে যায়। জনমানবশূন্য এ বিশাল সৈকতে শহীদ ইলিয়াছ মাস্টারের দেহটি ধুয়েমুছে পবিত্রতম করে দিয়ে যায়।

পদ্মাপারে যে স্বপ্নের ভেতর মমতাজ হোসেনের কৈশোর কেটেছে, সেই স্বপ্নই তাকে মহানন্দার তীরের মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছে। তাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে। পদ্মার ঢেউয়ের মতো মহানন্দার কলতান তার মনকে আকুল করে রাখে।

পরী বানুর বুকের কান্না থেমে যায়। সে যেন খুঁজে পায় এলাহী বক্সের করব। এ কবরে এলাহী বক্স চিরনিদ্রায় শায়িত আছে। ভাদড়া গ্রামের মানুষ অনন্তকাল ধরে এলাহী বক্সকে স্মরণ করবে। সে শুধু পরী বানুকে ভালোবাসেনি-এ গ্রামকে ভালোবেসেছে, গ্রামের মানুষকে ভালোবেসেছে, দেশকে ভালোবেসেছে।