শিক্ষা

View cart “গৃহদাহ” has been added to your cart.

৳ 450.00

সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ শিক্ষক ছিলেন। ছিলেন শিক্ষা-সংগঠকও। শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা করে যেমন শিক্ষার প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করেছেন, তেমনি সেই বিদ্যাপীঠে বক্তৃতা প্রদান করে হয়েছেন অনুকরণীয় বিদ্যোৎসাহী। শিক্ষা-বিষয়ক নিবন্ধ রচনা করেও তিনি সমকালে ও উত্তরকালে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। স্বদেশ-সমাজ নিয়ে ভাবনার নানাবিধ।  প্রবণতায় রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বহুকাল। “শিক্ষা’ নামক গ্রন্থে তিনি তৎকালীন ভারতবর্ষের, বিশেষ করে, বাঙালির অনুসৃত শিক্ষা-কাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিক্ষা-পরিস্থিতি এবং শিক্ষা-ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধে অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ মতামত প্রকাশ করেছেন। শুধু সংকটের কথাই উপস্থাপন করেননি, সমস্যা থেকে উত্তরণের বিচিত্র পথেরও সন্ধান দিয়েছেন। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা-ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং কাক্ষিত উন্নয়নের জন্য পথ বাতলিয়েছেন।

লেখাপড়ার মাধ্যম যে মাতৃভাষাই হওয়া উচিত- এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেছেন।  পাশাপাশি ভিনদেশি শিক্ষাদর্শন-বিজ্ঞানভাবনা-ন্যায়চিন্তা এবং সংস্কারমুক্তি যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য কত প্রয়োজন, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ । বিশেষ করে ইউরোপের শিক্ষা-সমস্যা ও শিক্ষা-আন্দোলনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের শিক্ষা-সংক্রান্ত, সুবিধা-অসুবিধার একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছেন। আর দেশীয় বাস্তবতায় তার সমাধানের দিকও বাতলে দিয়েছেন।  শিক্ষালাভের মধ্য দিয়ে মানুষ আত্মরক্ষার যে প্রচেষ্টা আয়ত্ত করে এবং শেষত যে জাতীয় ও ব্যক্তিক আত্মসম্মান অর্জন করে, তাতেই শিক্ষা-ব্যবস্থাপনার মূল মনোযোগ স্থির থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেছেন।  তাঁর মতে, ‘সুশিক্ষার লক্ষ্য এই যে, তাহা মানুষকে অভিভূত করে না, তাহা মানুষকে মুক্তিদান করে ।