সাংবিধানিক সরকার বনাম তত্বাবধায়ক সরকার

৳ 300.00

বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক সরকারের আদলে শাসন-শোষণ, অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ কর্তৃক তত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জোরালো হয় দিনে দিনে। এই দাবি জাতীয় পার্টির আমল থেকে শুরু হয়ে বিএনপি আমল (১৯৯১-১৯৯৬) সময়কালে  পরিপূর্ণ শক্তি পায় গণসচেতনতার বদৌলতে। যদিও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ একটি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, তবুও বলতে হয় এই ফর্মুলাটির প্রথম প্রবক্তা তারাই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রথম সংসদ সচিবালয়ে জমা দেন আওয়ামী লীগের এম পি আবদুর রহিম ১৯৯৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী এই কাজটি করতে ব্যর্থ হয় সমর্থনের অভাবে। ১৯৯৪ সালে এসে তত্ত্বাবধায়ক ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবি শক্তিশালী হয় বিএনপি কর্তৃক স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, দলীয়করণ ও স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে। জাতীয় পার্টিও এর সমর্থনে এগিয়ে আসে। অবশেষে বহু আন্দোলন আর রক্তক্ষয়ের ফসল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধান সংশোধন হয়ে ৫৮ ক-এ ২ক  পরিচ্ছেদে নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকার ৫৮-খ(১) থেকে (৪) ৫৮-গ (১) থেকে (১২) ৫৮(ঘ) (১) থেকে (২) ও ৫৮ (ঙ)-এ সংযোজিত হয়। কিন্তু এই মডেল যতটা না জনপ্রিয় হয়েছে ততটা অজনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে অপব্যবহারে। এর কুফল দেখতে দেখতে ইতোমধ্যে সত্যিকার সাংবিধানিক সরকারে ফিরে যাওয়ার আকাঙক্ষাও উঁকিঝুঁকি মারছে বারবার। গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেতে জাতি আজও আকাঙিক্ষত। আয়াত আলী পাটওয়ারী ২০০১ সালের নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবস্থা তথা কর্মকাণ্ড ও তৎপরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের অগণতান্ত্রিক স্বৈর প্রকৃতি দেখে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সময়কালে আইনের যে কত ফাঁকফোকর লিখতে গিয়ে অত্র গ্রন্থে সূচিবদ্ধ লেখাগুলো লিখেছেন। কিছু ভিন্নমাত্রার লেখাও সূচিবদ্ধ হয়েছে যা ব্যতিক্রমী তো বটেই। এই লেখাগুলো থেকে পাঠক কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির সুফল-কুফল ও সাংবিধানিক সরকার পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা কিংবা অপ্রয়োজনীয়তা।